স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে বোর্নমাউথের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাদের আক্রমণভাগের শক্তি সম্পর্কে ভালোভাবেই প্রস্তুত থাকবে চেলসি। অ্যালেক্স স্কট না থাকায় মার্কাস টাভার্নিয়ার, রায়ান, জাস্টিন ক্লুইভার্ট ও রায়ান ক্রিস্টির মতো খেলোয়াড়দের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে ব্লুজদের। তবে বোর্নমাউথের আক্রমণে এমন একজন খেলোয়াড় রয়েছেন, যার প্রভাব শুধু গোল কিংবা অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না। তিনি এভানিলসন।
এ মৌসুমে এখনো গোলের দেখা পাননি এভানিলসন। তাই চেলসির রক্ষণভাগের জন্য তাকে তুলনামূলক কম হুমকি মনে করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তার ভূমিকা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। গোল না করেও বোর্নমাউথের আক্রমণকে কার্যকর করে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান রয়েছে। অফ-দ্য-বল মুভমেন্ট, প্রেসিং এবং সতীর্থদের খেলায় যুক্ত করার দক্ষতা দলের আক্রমণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বল ছাড়া এভানিলসনের চলাফেরা প্রতিপক্ষের রক্ষণে জায়গা তৈরি করে। পাশাপাশি বল ধরে রাখার ক্ষমতা এবং দ্রুত ওয়ান-টু কিংবা লিঙ্ক-আপ পাসের মাধ্যমে তিনি সতীর্থদের আক্রমণে যুক্ত করেন। তার এই বৈশিষ্ট্যগুলো চেলসির রক্ষণভাগের জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
চেলসি তিনজন সেন্টার-ব্যাক নিয়ে রক্ষণ সাজালে এভানিলসনের মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে তাকে নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে চেলসির ডিফেন্ডাররা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে গেলে বিপদ আরও বাড়তে পারে। কারণ এভানিলসনের তৈরি করা জায়গায় বোর্নমাউথের উইঙ্গার ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডাররা দ্রুত ঢুকে পড়তে পারেন।
এভানিলসন প্রচলিত অর্থে শুধু গোল করার জন্য সামনে থাকা একজন স্ট্রাইকার নন। বোর্নমাউথের আক্রমণে তিনি একই সঙ্গে সুযোগ তৈরির কারিগর এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী একটি কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিপক্ষের সেন্টার-ব্যাকদের নিজের দিকে টেনে এনে তিনি সতীর্থদের জন্য আক্রমণের জায়গা তৈরি করেন। পাশাপাশি শারীরিক দ্বৈরথে অংশ নিয়ে বল ধরে রাখার মাধ্যমে আক্রমণের গতি ধরে রাখেন।
ইতোমধ্যে তার নামের পাশে রয়েছে তিনটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ গোল না করেও দলের আক্রমণে সরাসরি অবদান রাখছেন তিনি। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের অবস্থান নষ্ট করা এবং দ্রুত আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা বোর্নমাউথকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
চেলসির জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ হতে পারে এভানিলসনকে আটকানোর দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া। তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার তৈরি করা ফাঁকা জায়গায় দৌড় দেওয়া খেলোয়াড়দেরও নজরে রাখতে হবে চেলসির রক্ষণভাগকে।
এভানিলসন নিচে নেমে এসে আক্রমণ তৈরি করলে কিংবা প্রতিপক্ষের সেন্টার-ব্যাকদের নিজের দিকে টেনে নিলে বোর্নমাউথের উইঙ্গার ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার জায়গা তৈরি হতে পারে। চেলসির ডিফেন্স যদি নিজেদের কাঠামো ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় বা সেই দৌড়গুলো অনুসরণ করতে না পারে, তাহলে নিজে গোল না করেও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এভানিলসন।
মন্তব্য করুন