বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ জেলার দুই প্রভাবশালী সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মনির হোসেন এবং মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার সদস্য বা রুকন আমিনুল ইসলাম নাসির। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, জামায়াতের আমির তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ রুকন পদ বাতিল করেছেন, যার ফলে তারা এখন থেকে দলের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত নন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নৈতিক স্খলন, সংগঠনের ভেতর বিভেদ তৈরি করা এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। মাওলানা মনির হোসেন দীর্ঘদিন সিরাজদিখান উপজেলায় দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার এই বহিষ্কারের ঘটনাটি নতুন নয়; গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে নিয়ে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় থেকেই তার সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং স্থানীয় পর্যায়ে তার দায়িত্ব স্থগিত করে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবগত করা হয়েছিল।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা সেক্রেটারি একেএম ফখরুদ্দীন রাজি জানিয়েছেন যে, নির্বাচনকালীন কর্মকাণ্ডে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তাকে আগেই দলীয় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে এই বহিষ্কারের মাধ্যমে বিষয়টি এখন চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু মুন্সীগঞ্জেই নয়, বরং সারা দেশেই যারা দলের আদর্শ পরিপন্থী বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেই কেন্দ্র থেকে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলের সুনাম রক্ষা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন