জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিলগুলোর একটি। বর্তমানে দেশে এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও তা বাধ্যতামূলক নয়। তবে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সঠিকতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এখন এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় পার হলে মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যে অনেক পরিবর্তন আসে, যা অনেক সময় পরিচয় শনাক্তে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করে।
মূলত ১৫ বছর পর একজন মানুষের চেহারার পরিবর্তন, আঙুলের ছাপের অস্পষ্টতা বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করেই কমিশন এই নতুন বিধান কার্যকর করার কথা ভাবছে। আইন অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্রের মেয়াদ ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। যদিও বর্তমানে এটি অনেকটা ঐচ্ছিক, তবে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে নির্ধারিত ফি ও পদ্ধতি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট সময় পরপর তথ্য হালনাগাদ করা প্রতিটি নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে।
জাতীয় পরিচয়পত্র বিধিমালা অনুযায়ী, নবায়নের জন্য অনলাইনে বা সরাসরি নির্ধারিত ফরম জমা দেওয়ার নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ৩০ দিন এবং জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে ৭ দিন। সাধারণ আবেদনের জন্য ১০০ টাকা এবং জরুরি আবেদনের জন্য ১৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা আছে। তবে এনআইডি হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে কার্ড প্রতিস্থাপনের ফি নবায়নের চেয়ে কিছুটা বেশি রাখা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে।
বর্তমানে নাগরিকরা প্রয়োজনবোধ করলে যেকোনো সময় এনআইডি নবায়ন করতে পারেন। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি এখনও পর্যালোচনাধীন রয়েছে। এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এইচ এম আনোয়ার পাশা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সব দিক সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। নাগরিকদের সেবাপ্রাপ্তি সহজতর করা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাই মূলত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নতুন এই নিয়ম চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে তাদের এনআইডি নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নবায়ন করতে হবে।
মন্তব্য করুন