রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলা, ভাঙচুর, দখল এবং ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যেমন বাড়ছে, তেমনি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে সরকার। বিশেষ করে মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের নাম আসায় সরকারের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যর্থতা স্বীকার করে সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুঃখ প্রকাশ ও বিব্রতকর অবস্থার কথা জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর মিরপুরে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে লুটপাটের ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে বহুতল ভবন দখলের চেষ্টা এবং মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে বা স্থাপনা ভাঙচুর করা হলে সরকার প্রতিটি ঘটনায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও বিব্রত, কারণ জনগণের নিরাপত্তা বিধানের মূল দায়িত্ব সরকারের ওপরই বর্তায়।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এসব অবনতি সরকারের জন্য বাড়তি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই এবং অপরাধী সে অপরাধীই—দলমত নির্বিশেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ক্ষমতায় আসা একটি দলের মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ধরনের আইন অমান্যের প্রবণতা রোধ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশাসন ও দলীয় নীতিনির্ধারকদের আরও বেশি কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা
মন্তব্য করুন