রাজধানীতে হানিট্র্যাপ বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. আনোয়ার হোসেন, বদিউজ্জামান শাহীন, মরিয়ম, শাহাদাত হোসেন ও উর্মী বেগম। গত ৩ ও ৪ জুলাই সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল। ডিবি সূত্রে জানা যায়, এক বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা কাজের প্রয়োজনে দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় গেলে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন। মোবাইলে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তাকে খিলগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নেওয়া হয়। ফ্ল্যাটে প্রবেশের পর চক্রের অন্য সদস্যরা অতর্কিতে সেখানে উপস্থিত হয়। এরপর তারা ভুক্তভোগীকে মারধর করে এবং নারীদের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করে রাখে।
এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চক্রটি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ টাকা, এটিএম কার্ড, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ভুক্তভোগীর ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে তারা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় এবং আরও মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে ডিবি। অভিযানে তাদের কাছ থেকে নয়টি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে, এই চক্রটি একই কৌশলে আরও অনেককে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং বর্তমান চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও ভুক্তভোগীদের খোঁজে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে ডিবি। বর্তমানে তারা পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। রাজধানীতে এ ধরনের চক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অভিযানকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন