বিদেশি জাতের মুরগির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশি মুরগির ডিম ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানোর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে এবার বড় পরিসরে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশীয় জাত সংরক্ষণ এবং এর উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রায় ৪৯ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অবগতির জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া ‘দেশি মুরগি গবেষণা, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন জোরদারকরণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। প্রকল্পটির ব্যয় ৫০ কোটি টাকার কম হওয়ায় এর আগে এটি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনুমোদন করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তা আজ একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বাস্তবায়নে চলতি বছর থেকে ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ঢাকার সাভারের প্রধান কার্যালয় ছাড়াও ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, যশোর সদর, নীলফামারীর সৈয়দপুর এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে খামার পর্যায়ে দেশি মুরগির ডিম দেওয়ার হার বছরে ৫ থেকে ১০ শতাংশ বাড়ানো এবং প্রতিটি মুরগির মাংসের পরিমাণ ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি লাভজনকভাবে দেশি মুরগি পালনের অন্তত পাঁচটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও খামারি পর্যায়ে তা ছড়িয়ে দেওয়া। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে খামারিদের পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন