ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা করার পর নিজের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। সোমবার দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে হত্যাকাণ্ডের পর অনেকে একে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা করলেও আজকের এই রায়ের মাধ্যমে এটি যে একটি ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড ছিল তা আবারও স্পষ্ট ও প্রমাণিত হয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি শুকরিয়া আদায় করলেও একই সঙ্গে তাদের পরিবারকে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। জীবন নিয়ে চরম শঙ্কায় থাকা এই পরিবারটি প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে অবিলম্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ শুনানি ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। সোয়া দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যারা হলেন উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ এবং ইফতেখার হোসেন রানা। অন্যদিকে বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর ১০ জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আজকের এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটলেও নিরাপত্তা নিয়ে নুসরাতের পরিবারের উদ্বেগ কাটেনি। ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করার পর থেকেই মূলত এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল। পরবর্তীতে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিপক্ষের নানা ধরনের চাপ ও ব্যর্থতায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল অদম্য সাহসী এই ছাত্রীর জীবন প্রদীপ নিভে যায়। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করলে তা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপ নেয় এবং বিচারিক আদালতের রায়ের পর আজ হাইকোর্টে চূড়ান্ত এই রায় ঘোষিত হলো।
মন্তব্য করুন