|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jul 15, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ইইউতে তালেবানের প্রতিনিধি: বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ ও বিতর্ক

সম্প্রতি বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তালেবানের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে দীর্ঘ কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় থাকলেও, এবারের এই বৈঠক তাদের ইউরোপীয় কূটনীতিতে প্রবেশাধিকারের একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ইইউভুক্ত কোনো দেশই তালেবান সরকারকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে এই আলোচনাকে এক নতুন বাঁক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইউরোপে বসবাসরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত আফগান নাগরিকদের প্রত্যাবাসন। ইউরোপের দেশগুলো থেকে অবৈধভাবে বসবাসকারী কিংবা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত আফগানদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজতর করতেই ইইউ দেশগুলোর সিংহভাগ এই আলোচনায় সম্মত হয়েছিল। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভো পরিষ্কার করেছেন যে, তালেবান প্রতিনিধিদের ভিসা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে তাদের শাসনব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত একটি যৌথ ও দৃঢ় পদক্ষেপ, যা ইউরোপীয় দেশগুলোর অভিবাসন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

এই বৈঠকের পেছনে ইইউর বাস্তবমুখী বাধ্যবাধকতা থাকলেও, বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা এই ঘটনাকে তালেবান শাসনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই এই বৈঠকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যে শাসনব্যবস্থা আফগান নারী ও মেয়েদের মৌলিক অধিকার হরণ করছে, তাদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা মানবাধিকারের চরম অবমাননা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, জোরপূর্বক আফগান নাগরিকদের তালেবানের হাতে তুলে দেওয়া মানেই তাদের নিশ্চিত বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে লাখ লাখ আফগান নাগরিক বসবাস করছেন। এর মধ্যে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় তালেবানের সহযোগিতা ছাড়া ইইউর পক্ষে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে একদিকে তালেবান চাইছে ইউরোপীয় মিশনগুলোতে নিজেদের উপস্থিতি ও কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে, অন্যদিকে ইইউর সরকারগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অভিবাসন সংকট নিরসনে তালেবানের সঙ্গে নিরুপায় হয়েই আলোচনার টেবিলে বসছে। এই টানাপোড়েনে বিশ্ব কূটনীতিতে আফগানিস্তান ইস্যুতে এক জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মানবাধিকার ও জাতীয় নিরাপত্তা উভয়কেই ভারসাম্যপূর্ণভাবে দেখার চ্যালেঞ্জ এখন ইইউর সামনে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নামন ধীরের ক্যাচ নিয়ে বিতর্ক

1

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের পেছনের সংগ্রাম

2

চীন থেকে এলএনজি টার্মিনাল আনতে বেশি খরচও মেনে নিতে হবে

3

ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর, মা

4

চ্যাটজিপিটির ‘৮০-এর দশকের ছবি’ ট্রেন্ড: কী এটি এবং কীভাবে তৈ

5

শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য দল ঘোষণা পাকিস্তানের, টি-টোয়েন্টি স্কোয়

6

ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া লাইভ স্কোর, একাদশ ও প্রেডিকশন ২০

7

বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও কমেনি দুর্ভোগ

8

মেসির ফাউল ও লাল কার্ড বিতর্ক

9

জুলাই জাদুঘরে কোনো ধরনের দলীয় ইতিহাস দেখতে চাই না: নাহিদ ইসল

10

ইতালির বিরুদ্ধে পাল্টা কঠোর অবস্থান স্পেনের, সীমান্ত নিয়ন্ত্

11

বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান স্পিকা

12

ওসি আফতাব উদ্দিনের কোটি টাকার মিশন ভেস্তে গেল

13

জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে অন্তত ১৫ জনের প

14

জয়ার নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’: ভারতীয় সমালোচকদের চোখে ক

15

নাটোরের লালপুরে খেলায় অতিথি না করায় ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

16

ব্যান্ডরোল অপচয়ের নামে বিএটিবির সাড়ে ২৩ কোটি টাকার রাজস্ব

17

স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস: প্রথমবারের মতো ভরি ২ লাখ ৭০ হাজার

18

রাজধানীর বাজারে অপরিবর্তিত মাছ-মাংস ও ডিমের দাম, চড়া দামে বি

19

পরাজয় নিশ্চিত জেনেও রাষ্ট্রপতি পদে লড়ছেন কর্নেল অলি আহমদ, জ

20