দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে মার্কিন মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনায় কাঁপছে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল। শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) ইরান জানিয়েছে, তাদের দক্ষিণ উপকূলে মার্কিন বিমান হামলার জবাব দিতে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলা চালিয়েছে।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও হামলার কারণ ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের এই ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপটি সিরিক বন্দর নগরীর একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইরান ড্রোন হামলা চালানোর প্রতিক্রিয়ায় তারা ইরানের উপকূলীয় এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছিল।
বাহরাইনের প্রতিক্রিয়া মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত বাহরাইন এই ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এটি কেবল সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘনই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও একটি বড় হুমকি। বাহরাইন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের এই ধারাবাহিক হামলা গত ১৭ জুনের ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা যেকোনো মূল্যে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষার অধিকার সংরক্ষণ করে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
অনিশ্চয়তায় শান্তি প্রক্রিয়া এই উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধ বন্ধের একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, হিজবুল্লাহ তাতে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার দাবি জানাচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি মেনে চললেও যেকোনো সহিংসতার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ চার মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর সৌদি আরামকোর মাধ্যমে পুনরায় তেল সরবরাহ শুরুর খবরে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, নতুন করে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা আবারও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন