হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর পবিত্র মাজারে আধ্যাত্মিক পরিবেশকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী অপরাধ সিন্ডিকেট। যুগান্তরের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ভক্তদের মানতের একটি গরু একাই সাতবার বিক্রির মতো ভয়াবহ প্রতারণার তথ্য। মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সংঘবদ্ধ চক্রটি শুধু গবাদি পশু বা দানের টাকা নয়, বরং স্বর্ণালংকার, বিদেশি মুদ্রা এবং ভক্তদের মানতের সামগ্রী হাতিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকার অন্ধকার সাম্রাজ্য তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদারকি না থাকায় মাজারে দানের টাকা সরাসরি বস্তাবন্দি করে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যেত। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দানবাক্স ও ডেক সিলগালা করে সিসিটিভির নজরদারিতে অর্থ গণনা শুরু হলে জালিয়াতির এই চিত্র প্রকাশ্যে আসে। মাত্র ২৫ দিনে পাওয়া গেছে ৬৪ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, ১২ দেশের মুদ্রা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার। অথচ অভিযোগ রয়েছে, সঠিক তদারকি থাকলে এর কয়েক গুণ টাকা পাওয়া সম্ভব ছিল, কারণ সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভক্তদের থেকে সরাসরি ‘হাতে হাতে’ টাকা আত্মসাৎ করছে।
মাজারের খাদেমদের মধ্যে থেকে একটি প্রভাবশালী চক্র এই অপরাধ নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করে। বিশেষ করে কেরানি সামুন মাহমুদ খান এবং খোকন ওরফে বকরি খোকনের নেতৃত্বে ৩০ জনের একটি দল দৈনিক আয়ের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। মাজারের ভেতরে পকেটমার, ছিনতাইকারী ও জুতাচোর সিন্ডিকেট সক্রিয় রেখে তাদের কাছ থেকে পার্সেন্টেজ আদায় করা হয়। কোনো ভক্ত প্রতিবাদ করলে তাকে চোর আখ্যা দিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক।
প্রতারণার এই চক্রটি ভক্তদের আনা গরু-ছাগল গোয়ালঘরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় নতুন মানতের নামে বিক্রি করে দেয়। বাবুর্চিদের বিরুদ্ধেও মাংস ও শিন্নি চুরির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ভক্তদের কেনা দামি গিলাফ ও গোলাপজল সরিয়ে নিয়ে পুনরায় বাজারে বিক্রির মাধ্যমে তারা লুটে নিচ্ছে অগাধ সম্পদ। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে অনিয়ম অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং বিষয়টি দুদকের নজরেও রয়েছে। পবিত্র মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের ভক্তিকে ব্যবহার করে যারা এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
মন্তব্য করুন