ঈদুল ফিতরের ১৫ দিনে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি এবং গত বছরের তুলনায় দুর্ঘটনার হার ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, গত ১৫ দিনের ঈদযাত্রায় (১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ) মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। বিগত ২০২৫ সালের তুলনায় এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় ৯ শতাংশ এবং প্রাণহানি ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরাবরের মতোই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ছিল শীর্ষে; মোট দুর্ঘটনার ৩৬ শতাংশেরও বেশি ছিল বাইক কেন্দ্রিক, যাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩৫ জন। দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৩৫ শতাংশের বেশি ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ এবং ৩২ শতাংশের বেশি পথচারীকে চাপা দেওয়ার ঘটনা। জাতীয় মহাসড়কেই সবচেয়ে বেশি (৪৩ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে। মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন যে, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের একচেটিয়া প্রভাব এবং সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থায় যাত্রী প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারণেই ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা বেড়েছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়ন্ত্রণে ছিল।