মুসলিম সংস্কৃতির অন্যতম প্রধান ও সুন্দর অংশ হলো সালাম বিনিময়, যা পারস্পরিক ভালোবাসা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যম। এক মুসলিম অন্য মুসলিমের সাথে দেখা হলে সালাম দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব বা অবশ্য কর্তব্য। পবিত্র কুরআনের সুরা নিসার ৮৬ নম্বর আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কেউ সালাম দিলে তার উত্তর হয় তার চেয়ে উত্তমভাবে অথবা অন্তত ঠিক তেমনই ফিরিয়ে দিতে হবে। ইসলামী আইন ও ফিকাহশাস্ত্র অনুযায়ী, সালামের উত্তর এমনভাবে দিতে হবে যেন সালামদাতা তা শুনতে পান; অন্যথায় ওয়াজিব আদায় হয় না।
সাধারণত মুখের উচ্চস্বরে বা স্পষ্ট শব্দে সালামের জবাব দিতে হয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, সামনাসামনি থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ মুখে কিছু না বলে কেবল মাথা নেড়ে কিংবা হাতের ইশারায় সালামের উত্তর দিয়ে থাকেন। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, সাধারণ অবস্থায় মুখে উচ্চারণ না করে কেবল ইশারার মাধ্যমে সালামের জবাব দেওয়া জায়েজ নয়। হাদিসের বর্ণনায় একে অন্য ধর্মের বা ইহুদিদের সংস্কৃতির সাথে তুলনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি কেবল একটি আঙুলের বা ইশারায় সালামের উত্তর দেয়, তবে তা সঠিক রীতি নয়।
তবে এই নিয়মের কিছু বিশেষ ব্যতিক্রম বা ক্ষেত্রও রয়েছে। কোনো কারণে সালামদাতা যদি বধির হন কিংবা অনেক দূরে অবস্থান করেন, যেখানে মুখের কথা পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেক্ষেত্রে মুখে উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ইশারা বা ঠোঁট নাড়ানোর বিধান রয়েছে। ফকীহগণের মতে, বধির ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমনভাবে ঠোঁট নাড়াতে হবে যেন তিনি শুনতে পেলে বুঝতে পারতেন। সুতরাং, স্বাভাবিক অবস্থায় কেবল মাথা বা হাতের ইশারায় সালামের উত্তর না দিয়ে মুখেই স্পষ্ট ভাষায় সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব।
মন্তব্য করুন