প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি একদম নিরাপদ? হৃদরোগ, কোলেস্টেরল এবং প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া উচিত তা নিয়ে গবেষক ও পুষ্টিবিদদের বিস্তারিত তথ্য জানুন।
বেশিরভাগ বাঙালি পরিবারেই সকালের নাশতায় ডিম একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও অবশ্যম্ভাবী উপাদান। তৈরি করা সহজ, সাশ্রয়ী এবং উচ্চমানের প্রোটিনে ভরপুর হওয়ায় দিনের যেকোনো খাবারের তালিকায় ডিমের কদর আলাদা। তবে ডিমের কুসুমে থাকা কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা চিন্তা করে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, প্রতিদিন ডিম খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ নাকি এতে কোনো ঝুঁকি রয়েছে?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সাধারণ ও সুস্থ মানুষের জন্য প্রতিদিন ডিম খাওয়া সাধারণত নিরাপদ, তবে তা নির্ভর করে ব্যক্তির সার্বিক স্বাস্থ্য, দৈনিক খাদ্যাভ্যাস এবং ডিম রান্নার পদ্ধতির ওপর। ডিম প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম এবং কোলিনের মতো জরুরি পুষ্টিাদানের এক অনন্য উৎস। এছাড়া ডিমের কুসুমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন উপাদান চোখের জ্যোতি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ হলো, ডিমকে একক খাবার হিসেবে না দেখে সারাদিনের সামগ্রিক সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
প্রতিদিন কয়টি ডিম খাওয়া উপযুক্ত,তা নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দৈনিক ১টি গোটা ডিম অনায়াসেই গ্রহণ করতে পারেন। তবে যারা শারীরিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় বা যাদের প্রোটিনের বাড়তি চাহিদা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম আলাদা হতে পারে। খাবারের কোলেস্টেরল এবং রক্তের কোলেস্টেরল যে সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়, তা বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। খাদ্যে থাকা স্যাচুরেটেড ফ্যাট, বংশগত কারণ এবং ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার ওপর রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নির্ভর করে। তাই কেবল ডিম খেলেই সবার রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ে এমন ধারণার পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুরো ডিম নাকি শুধু সাদা অংশ খাবেন তা নিয়েও অনেকের দ্বিধা থাকে। ডিমের সাদা অংশ হলো চর্বিমুক্ত প্রোটিনের চমৎকার উৎস, যাতে কোনো কোলেস্টেরল থাকে না। অন্যদিকে পুরো ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। যারা কম চর্বিতে বেশি প্রোটিন চান, তারা একটি পুরো ডিমের সঙ্গে অতিরিক্ত সাদা অংশ যুক্ত করে নিতে পারেন। এছাড়া ডিম কীভাবে রান্না করছেন, সেটিও স্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মাখন, পনির বা তেলে ভাজার চেয়ে সেদ্ধ বা পোচ করে ডিম খাওয়া অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
তবে যাদের উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস কিংবা ডিমে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের প্রতিদিন ডিম গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দৈনিক খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
মন্তব্য করুন