পর্তুগাল ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি ও মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে আলোচনার শেষ নেই। জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সাথে মনোমালিন্যের জেরে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার সেই ঘটনা কেবল ক্রীড়াঙ্গনেই নয়, দেশটির পার্লামেন্টেও আলোড়ন তুলেছিল। পেশাদার ফুটবলে এক হাজার গোলের মাইলফলকের খুব কাছাকাছি থাকা ৯৮১ গোলের মালিক সিআরসেভেন সম্প্রতি সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে নরওয়ে ও ডেনমার্ক ম্যাচের আগে কোচের সাথে মতবিরোধের কারণে হঠাৎ করেই স্কোয়াড ছেড়ে চলে যান। যদিও পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে দীর্ঘ বিবৃতিতে সতীর্থ ও ভক্তদের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেই নিজের শাস্তির দাবি জানান।
রোনালদোর এই আচরণকে অনেকেই তার দাম্ভিকতা হিসেবে দেখলেও পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুতই তার সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনে। অবশেষে সোমবার ঘোষিত আনুষ্ঠানিক রায়ে রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছে ফেডারেশন। তবে এই শাস্তির মেয়াদ শুরু ধরা হয়েছে ৩০ সেপ্টেম্বর ডেনমার্ক ম্যাচের দিন থেকে, যার ফলে ইতোমধ্যে ১৯ দিন পার হয়ে গেছে এবং আগামী ১৪ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগেই তার নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে তাকে যে ২৫৫ ইউরো বা প্রায় ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও উপহাস। আল নাসর ক্লাবে দৈনিক প্রায় আট কোটি টাকা আয় করা এই মহাতারকার জন্য এই জরিমানা পরিশোধ করা যেন চোখের পলকের ব্যাপার। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা এই শাস্তি ও লঘু জরিমানাটিকে ‘লোক দেখানো’ ও ‘নামমাত্র’ বলে অভিহিত করছেন।
তবে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি এই শাস্তিকে ‘যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত’ বলে দাবি করেছে। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোনালদোর নিজের অপরাধ স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ, ফুটবল ইতিহাসে তার অসামান্য অবদান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনে জমা দেওয়া তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের জীবনবৃত্তান্ত বিবেচনা করেই তাকে বড় ধরনের কঠোর শাস্তি থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন