দুদকের দায়ের করা কোটি টাকার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলার অন্যতম প্রধান আসামি, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (সাবেক এয়ার চিফ মার্শাল) শেখ আব্দুল হান্নানকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে গ্রেফতার করেছে স্থানীয় পুলিশ। গত ১৫ অক্টোবর কাতার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে আর্ন্তজাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের অফিসিয়াল বার্তার মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
এর আগে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন এবং সন্দেহজনক মানিলন্ডারিংয়ের গুরুতর অভিযোগে সাবেক এই বিমানবাহিনী প্রধান ও তাঁর স্ত্রী তাহমিদা বেগমের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুদক। অপরাধলব্ধ অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শেষে মামলাগুলো রুজু করা হয়েছিল।
দুদকের দায়ের করা প্রথম মামলায় অভিযুক্ত করা হয় শেখ আব্দুল হান্নানকে। এজাহারে বলা হয়, তিনি তাঁর বৈধ আয় ও আয়ের তথ্যের বাইরে গিয়ে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার অঘোষিত সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া তাঁর নামে পরিচালিত ব্যাংকের ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন হিসাবে মোট ২৭ কোটি ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭০১ টাকার অত্যন্ত সন্দেহজনক ও অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
অপরদিকে দ্বিতীয় মামলাটিতে শেখ আব্দুল হান্নানের স্ত্রী তাহমিদা বেগমকে প্রধান আসামি করে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৩০৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৩২টি হিসাবে প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন চিহ্নিত করেছে দুদক। এই মামলায় স্বামী শেখ আব্দুল হান্নানকে স্ত্রীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী হিসেবে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কাতারে গ্রেফতারের পর তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারে মুখোমুখি করার বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন