যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও তীব্র মানসিক চাপের জেরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এবং মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রণতরীটির ভেতরে ক্রুদের নিজেদের মধ্যকার সংঘর্ষে অন্তত সাতজন মার্কিন নৌসেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কোনো আনুষ্ঠানিক সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।
দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবরুদ্ধ থাকার কারণে মার্কিন সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বেড়েই চলেছিল। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়েছিল যে, সেনাদের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের প্রতিবাদে তাদের পরিবারের সদস্যরাও রাজপথে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন। এমন একটি উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের প্রধান ব্র্যাড কুপারের এক উপদেষ্টা সরাসরি রণতরীটিতে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু ক্রুদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মুখে পড়েন। উত্তেজিত সেনারা তাকে লক্ষ্য করে দুয়োধ্বনি দেওয়ার পাশাপাশি পানির বোতল ছুড়ে মারেন বলে ইরানি গণমাধ্যমের দাবিতে উঠে এসেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ক্রুদের দুটি পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক আকার ধারণ করে যে, সংঘর্ষের সময় ধারালো ছুরি ও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। টানা ২৬৩ দিন মোতায়েন থাকা এবং এর মধ্যে টানা ২০৮ দিন কোনো বিরতি ছাড়া সমুদ্রে অবস্থান করার কারণে সেনাসদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, এই ঘটনা তারই একটি নির্মম পরিণতি বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই সাত নৌসেনা নিহতের দাবির পক্ষে কোনো স্বাধীন বা আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে এখন পর্যন্ত জোরালো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তবুও বিশ্বজুড়ে সামরিক মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন