হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের লাগেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এখন থেকে বিমানবন্দরে নেমেই যাত্রীরা লাগেজ বেল্ট এলাকায় রাখা ৬৫ ইঞ্চির বিশালাকার ফোরকে মনিটরে তাঁদের ব্যাগেজ প্রক্রিয়াকরণের দৃশ্য সরাসরি দেখতে পাবেন। রানওয়েতে রান করা উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানোর পর থেকে তা যাত্রীর হাতের কাছে কনভেয়র বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে এই স্ক্রিনগুলোতে লাইভ সম্প্রচার করা হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, শাহজালালের সবকটি লাগেজ বেল্ট মিলিয়ে মোট ১৮টি ৬৫ ইঞ্চি সাইজের ফোরকে হাই-ডেফিনিশন মনিটর সফলভাবে বসানো হয়েছে। একই সাথে লাগেজ নামানো ও আনলোডিং প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে গভীর নজরদারি নিশ্চিত করতে আটটি লাগেজ বেল্টের ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং এলাকায় মোট ৩২টি অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ এই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি বেল্টের পেছনের ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং অংশে পৃথকভাবে চারটি করে উচ্চমানের ক্যামেরা বসানো হয়েছে যাতে কোনো কোণ নজর এড়িয়ে না যায়।
নতুন এই সিসি ক্যামেরাগুলোর ধারণ করা ফুটেজ রিয়েল-টাইমে বেল্ট এলাকায় থাকা ফোরকে মনিটরগুলোতে সরাসরি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রানজিট কিংবা আগমনী যাত্রীরা লাগেজ বেল্টের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সময় উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড থেকে লাগেজ বের করা, ট্রলিতে তোলা এবং বেল্টে ম্যানুয়ালি ফেলার প্রতিটি স্তর নিজ চোখে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। এতে করে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো কারচুপি বা লাগেজ কাটার মতো ঘটনা ঘটছে কি না তা নিয়ে যাত্রীদের আর সংশয়ে থাকতে হচ্ছে না।
দীর্ঘদিন ধরে উড়োজাহাজ থেকে ব্যাগ খালাস ও বেল্টে পৌঁছানো নিয়ে যাত্রীদের নানা অভিযোগ ও উৎকণ্ঠা ছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এই লাইভ মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে লাগেজ হ্যান্ডলিং কর্মীদের দায়িত্বশীলতা ও কাজের স্বচ্ছতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে চুরি, লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব হওয়ার মতো পুরাতন সমস্যাগুলো এক ধাক্কায় বহুলাংশে কমে আসবে, যা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় যাত্রীদের বিমানবন্দরে এক স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা উপহার দেবে।
মন্তব্য করুন