কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মো. আল-আমিন সৈকত (৪৫) হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পত্তি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ মূল কারণ বলে দাবি করেছেন তাঁর মা ও স্ত্রী। স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত শত্রুতার জেরে চাচা ও চাচাতো ভাইদের হাতেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। তবে এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি।
গত রোববার গভীর রাতে ভৈরব বাজারের টিনপট্টি এলাকায় একদল দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত হন আল-আমিন সৈকত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে সোমবার রাতে ভৈরবপুর ঈদগাহ মাঠে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে ভৈরব পৌর কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। নিহত আল-আমিন সৈকত ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছাড়াও একজন প্রতিষ্ঠিত সার ডিলার এবং স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলের মালিক ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী ও মায়ের অভিযোগ, পরিবারের চাচা ও চাচাতো ভাইদের সাথে জমি বণ্টন নিয়ে তাদের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ চলছিল। কিছুদিন আগে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরিবারের দাবি, চাচা ও চাচাতো ভাইদের নির্দেশে সঙ্গীদের নিয়ে রাতের আঁধারে আল-আমিনের ওপর এই সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বাড়িঘরে তালা ঝুলিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এদিকে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা মাত্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন