ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য যদি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা বৃদ্ধিও পায়, তবুও সাধারণ মানুষের তা মেনে নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই জোরালো মন্তব্য করেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে যদি সস্তায় জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনে বাধা দেওয়ার পক্ষেই তাদের রায় দেবেন।’ ট্রাম্প দৃঢ়তার সঙ্গে আরও যোগ করেন যে, কোনো সাধারণ মানুষই চায় না ইরানের মতো দেশের হাতে ভয়ংকর পারমাণবিক অস্ত্র থাকুক এবং তিনি নিশ্চিত করে বলেন যে, তারা সেটি কখনই অর্জন করতে পারবে না। বর্তমান সংঘাতের বিষয়ে তিনি দাবি করেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান এই লড়াইয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং এই যুদ্ধ খুব দ্রুতই সমাপ্তির পথে যাবে। যদিও এর ঠিক একদিন আগেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে, প্রয়োজনে ইরানকে “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করে দেওয়ার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
ট্রাম্পের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান এই সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা পুরোপুরি নিরসন হয়ে যুদ্ধ শেষ হলেই আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোল ও জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত সংঘাত শুরুর আগের স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসবে। তবে তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এমনিতেই মারাত্মক অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং দক্ষিণ এশাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষ তেলের চড়া দামের কারণে চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।
মন্তব্য করুন