যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও উত্তেজনা নিরসনে ইরানের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দেওয়ায় বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা সাত দিনের মতো তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের পর দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য হ্রাসের একটি নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারদরের মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৯৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১০২ দশমিক ১৩ ডলারে নেমে এসেছে। এর পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ব্যারেলে ৫৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৯১ দশমিক ৫৬ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে। এর আগে বাজারে স্বল্পসময়ের জন্য কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিলেও, তেহরানের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তুতির কথা জানানোর পর পরই তেলের বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা ফিরে আসে। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের এই বিরোধপূর্ণ সংকট সমাধানে এখনও বেশ কিছু মৌলিক মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে যে বাড়তি উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, এই ধারাবাহিক দরপতন তাতে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। ইতিমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্ডের সুদের হারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার সামান্য বেড়ে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এদিকে শিকাগো ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট অস্টান গুলসবি সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে, মূল্যস্ফীতির বর্তমান চাপ যদি কেবল জ্বালানি তেলের দামের সাময়িক ধাক্কার কারণে না হয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো কাঠামোগত কারণে ঘটে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
মন্তব্য করুন