সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশন বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছেন দুই হাজারের বেশি প্রার্থী। দেশের ৬১টি জেলার এই প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীরা নথিপত্র পুনরায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই এবং আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬১ জেলায় মোট দুই হাজারেরও বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন সুনামগঞ্জে, যার সংখ্যা ১২০ জন। এছাড়া দিনাজপুরে ১১৪ জন, যশোরে ১০৬ জন, কুমিল্লায় ১০২ জন এবং ভোলায় ৮৪ জন প্রার্থী বাদ পড়েছেন। বিভাগওয়ারি হিসেবে রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ৫০৪ জন এবং খুলনা বিভাগে ৪২০ জন প্রার্থী বাদ পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রার্থীদের অভিযোগ, কোনো সুস্পষ্ট বা গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়াই প্রশাসনিক জটিলতা ও অসংগতির কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রেরণ করা হবে। একই সঙ্গে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এবং বাদ পড়া প্রার্থীদের নথি পুনর্বিবেচনার দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ পালন করেছেন ভুক্তভোগী প্রার্থীরা।
মন্তব্য করুন