যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার মুহূর্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। কোভিড-১৯ মহামারির উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত চীনের উহানের ল্যাবে ‘বিপজ্জনক গেইন-অব-ফাংশন’ গবেষণায় অর্থায়নের জন্য তিনি সরাসরি সাবেক মার্কিন উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউচিকে দায়ী করেছেন। এনডিটিভির বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিজের দপ্তরে শেষ কর্মদিবসে কিছু ‘অপ্রকাশিত’ নথিপত্র প্রকাশ করে গ্যাবার্ড এই গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, মহামারি শুরুর দিকে মার্কিন সরকারের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ড. ফাউচি করদাতাদের কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বাদুড়ের করোনাভাইরাস নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণা চালিয়েছিলেন।
গ্যাবার্ডের দপ্তরের পক্ষ থেকে ড. ফাউচির বিরুদ্ধে ল্যাব-লিক তত্ত্ব ধামাচাপা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্যাবার্ডের দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়, ড. ফাউচি কেবল বিতর্কিত গবেষণায় অর্থায়নই করেননি, বরং ভাইরাসের ‘ল্যাব-লিক’ বা গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ার তত্ত্বটি ধামাচাপা দিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর অন্যায্য প্রভাব খাটিয়েছেন। বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, ড. ফাউচি একটি ‘স্বার্থান্বেষী বলয়’ তৈরি করেছিলেন, যারা প্রাকৃতিক উৎস থেকে ভাইরাসের উৎপত্তি হয়েছে—এমনটা জোর প্রচার করে ল্যাব-লিক তত্ত্বকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়েছিল। ব্যক্তিগত কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করা তুলসি গ্যাবার্ড এই পুরো ঘটনাকে ‘ডিপ স্টেটের’ বা রাষ্ট্রের ভেতরের অদৃশ্য শক্তির পুরোনো খেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে চলা মিথ্যাচার, সেন্সরশিপ এবং তথ্য লুকানোর ঘটনার পর এখন সময় এসেছে সত্য ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার।
গ্যাবার্ডের নতুন প্রকাশিত নথিপত্র ড. ফাউচির পূর্বের দেওয়া বক্তব্যকে সরাসরি মিথ্যা প্রমাণ করে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন মাসে মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্যে ড. ফাউচি সরাসরি মিথ্যা কথা বলেছিলেন। সেই শুনানিতে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি মহামারির আগে বা পরে এফবিআই, সিআইএ বা অন্য কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ভাইরাল গবেষণা নিয়ে কোনো আলোচনা করেছেন কিনা। জবাবে ফাউচি বলেছিলেন, ‘কোভিড নিয়ে এমন কিছু আমার জানা নেই’। গ্যাবার্ডের দাবি, নতুন নথিপত্রগুলো তাঁর এই মিথ্যার অকাট্য প্রমাণ।
পাশাপাশি, ড. ফাউচি কেবল মিথ্যাই বলেননি, বরং যারা তাঁর মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছিলেন, তাদের ওপর চরম দমনপীড়ন চালানো হয়েছিল। গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক হুইসেলব্লোয়ারের ভাষ্যমতে, ফাউচির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলা অনেক বিশ্লেষককে ক্যারিয়ারের বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, যার ফলে গোয়েন্দা দপ্তরে সত্যের চেয়ে আনুগত্যকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো। দীর্ঘ ৩৮ বছর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (এনআইএআইডি)-এর নেতৃত্ব দেওয়া ৮৫ বছর বয়সি ড. ফাউচি বা তাঁর সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন