জাপান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর পর দেশটির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এক সতর্কবার্তায় বলেছেন, জাপান যেভাবে ক্রমশ একটি আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে, তার উপযুক্ত জবাব দিতে পিয়ংইয়ংও খুব শীঘ্রই ‘অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করবে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-তে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন যে, আত্মরক্ষামূলক নীতির আড়ালে জাপান তাদের সশস্ত্র বাহিনীকে আত্মঘাতী হামলা এবং দেশের বাইরে সামরিক অভিযান পরিচালনায় সক্ষম এক বিপজ্জনক শক্তিতে পরিণত করছে।
বিবৃতিতে প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানি অ্যাজিস যুদ্ধজাহাজ ‘চোকাই’ থেকে চালানো সাম্প্রতিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা, বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং মে মাসে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত যৌথ সামরিক মহড়ায় জাপানের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কিম হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও যোগ করেন যে উত্তর কোরিয়া এমন কড়া উপায়ে এর প্রতিক্রিয়া জানাবে যাতে টোকিও নিজ দেশের নিরাপত্তা আরও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের উদ্দেশ্যে দেওয়া এটিই সবচেয়ে তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে তাদের এই হঠকারী কাজের জন্য কড়া অনুশোচনা করতে হবে।
এই পুরো পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধানত দায়ী করে কিম বলেন যে ওয়াশিংটনই টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ, সামরিক জাহাজের আধুনিকায়ন এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে জাপানের সামরিক উচ্চাভিলাষকে উসকে দিচ্ছে। জাপানের এই দীর্ঘ পাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন উত্তর কোরিয়াসহ আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোকে সরাসরি তাদের আক্রমণের আওতায় নিয়ে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন। সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মু-জিনের মতে, পিয়ংইয়ং মূলত তাদের নিজস্ব অস্ত্র বিকাশ কর্মসূচি ও সামরিক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈধতা দিতেই জাপানের সামরিক আধুনিকায়নকে বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করছে। এছাড়া কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের ধারণা, এই কঠোর বার্তাটি অদূর ভবিষ্যতে উত্তর কোরিয়ার নতুন কোনো বড় ধরনের সামরিক প্রদর্শনী বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতিও হতে পারে।
মন্তব্য করুন