থাইল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলীয় ফেতচাবুরি প্রদেশের দোন ইয়াই থং নামক এক প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে খননকাজ চালানোর সময় গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো দুটি সোনার আংটি। একটি কঙ্কালের অবশিষ্টাংশের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া এই মূল্যবান অলঙ্কারগুলো ওই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস ও মানুষের জীবনধারা সম্পর্কে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। থাই সরকারের চারুকলা বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সাইটটি প্রাগৈতিহাসিক লৌহ যুগের এক সমৃদ্ধ জনবসতির প্রমাণ বহন করে।
আবিষ্কৃত আংটি দুটির মধ্যে একটিতে প্রাচীন ভারতীয় লিখন পদ্ধতি ‘ব্রাহ্মী লিপি’ খোদাই করা রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক ও বিশেষজ্ঞরা লিপিটির পাঠোদ্ধার করেছেন পুসারখিতাসা হিসেবে, যার আক্ষরিক অর্থ হলো পুষ্যা নক্ষত্র বা পুশ্য দ্বারা সুরক্ষিত ব্যক্তি। ভারতীয় জ্যোতিষশাস্ত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে পুষ্যা নক্ষত্রকে অত্যন্ত শুভ ও পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। আংটির সাথে পাওয়া অন্য কঙ্কাল বা অলঙ্কারগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকদের ধারণা যে, এই সমাধিটি সম্ভবত তৎকালীন সমাজের উচ্চবিত্ত বা ধনাঢ্য শ্রেণির মানুষের ছিল।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই আংটি দুটির মালিক প্রাচীন ভারতের বর্ণপ্রথার বৈশ্য সম্প্রদায়ের কোনো বণিক বা ব্যবসায়ী হতে পারেন। আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার বছর আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে ভারতের যে নিবিড় বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ছিল, এই আবিষ্কার তাকেই আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করে। ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় চলতি বছরের শুরুতে চিহ্নিত করা হয় এবং এরপর থেকে সেখানে ধারাবাহিক খননকাজ চলছে।
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুরু হওয়া এই খনন অভিযানে এখন পর্যন্ত আটটি মানবকঙ্কাল, ব্রোঞ্জের তৈরি সামগ্রী, মৃৎপাত্র এবং সোনার অলঙ্কার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নিদর্শন থেকে স্পষ্ট যে, দোন ইয়াই থং অঞ্চলটি প্রাচীনকালে একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল। থাইল্যান্ডের চারুকলা বিভাগ জানিয়েছে যে, আগামী এক মাসের মধ্যে খননকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এর পরপরই উদ্ধারকৃত এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শনীর উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, যা ইতিহাসের এক বিস্ময়কর অধ্যায়কে সবার সামনে তুলে ধরবে।
মন্তব্য করুন