বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে স্পেনের ১-০ গোলের জয়টি এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে। ডালাস স্টেডিয়ামে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেওয়া সেই একমাত্র গোলটি করেছেন মিকেল মেরিনো। গোল করার পাশাপাশি মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং রক্ষণে তার অভাবনীয় অবদান স্পেনকে পৌঁছে দিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে। বর্তমান স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম পরিশ্রমী এবং বহুমুখী মিডফিল্ডার হিসেবে পরিচিত মেরিনো এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজরে।
পাম্পলোনার এক ফুটবল পরিবারে ১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া মেরিনোর রক্তেই ছিল ফুটবলের টান। তার বাবা মিগেল মেরিনো নিজেও একজন পেশাদার ফুটবলার ছিলেন, যার অনুপ্রেরণায় খুব অল্প বয়সেই তিনি ওসাসুনার যুব একাডেমিতে ফুটবলের হাতেখড়ি নেন। এরপর ইউরোপের বড় বড় লিগগুলোতে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে করে তুলেছে পরিণত। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড এবং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মতো ক্লাবে কাটানো সময়গুলো তার খেলার ধরণকে আরও পরিপক্ক করেছে। তবে রিয়াল সোসিয়েদাদে যোগ দেওয়ার পরই তিনি বিশ্বমঞ্চে নিজেকে এক অপরিহার্য মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন।
মেরিনোর খেলার বিশেষত্ব হলো তার বহুমুখী ভূমিকা। স্প্যানিশ ফুটবলে তাকে কেবল একজন গোলদাতা হিসেবে দেখা হয় না; তিনি এমন একজন মিডফিল্ডার যিনি ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন অনায়াসেই। নিখুঁত পাসিং, বলের দখল রাখা, মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের আক্রমণ নস্যাৎ করা এবং প্রয়োজনে গোল করা সবকিছুতেই তিনি সমান পারদর্শী। দলের দুঃসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং স্নায়ুচাপ সামলানোর অসাধারণ ক্ষমতার কারণে তিনি বর্তমান স্প্যানিশ স্কোয়াডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের একজন।
পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের সেই জয়সূচক গোলটি কেবল একটি গোল নয়, বরং এটি তার দীর্ঘ পরিশ্রম এবং অভিজ্ঞতার ফসল। নকআউট পর্বের স্নায়ুচাপের ম্যাচে তার শান্ত মস্তিষ্কের পারফরম্যান্স কোচ এবং ভক্তদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। স্পেন যখন শিরোপার স্বপ্ন দেখছে, তখন মাঝমাঠের এই ‘নির্ভরযোগ্য যোদ্ধা’ মিকেল মেরিনোর ওপরই এখন সবার প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। কোয়ার্টার ফাইনালের পরবর্তী ধাপগুলোতেও এই ফর্ম অব্যাহত থাকলে স্পেনের জন্য শিরোপার পথ অনেকটা সুগম হবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
স্পেন কি পারবে মিকেল মেরিনোর হাত ধরে বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে? আপনার মতামত জানান।
মন্তব্য করুন