২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখন এক দারুণ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সান্তা ক্লারার স্টেডিয়ামে বোসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারানোর পর স্টেডিয়ামজুড়ে বেজে উঠল জন ডেনভারের কালজয়ী গান ‘টেইক মি হোম, কান্ট্রি রোডস’। এটি কেবল একটি গান নয়, বরং মার্কিন ফুটবল দলের বর্তমান সাফল্যের এক অবিচ্ছেদ্য সুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি জয়ের পর গ্যালারিতে দর্শকদের কণ্ঠে এই সুর এখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিজয়গাথার প্রতীক।
বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ছিল এক অগ্নিপরীক্ষা। ম্যাচের বড় একটি সময় ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলেও তারা প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগ দেয়নি। দলের এই লড়াকু মানসিকতা এবং শেষ দিকে মালিক টিলম্যানের জাদুকরী ফ্রি-কিকে পাওয়া জয়টি দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল মার্কিন ফুটবলপ্রেমীরা। এই জয় কেবল মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং দলের একতা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিফলন।
মাঠের লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের দৃঢ়তা এবং গ্যালারিতে সমর্থকদের বিপুল উদ্দীপনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শক্তি। স্বাগতিক দর্শকদের এই সমর্থন ও আত্মবিশ্বাস বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে পরবর্তী চ্যালেঞ্জে তাদের বাড়তি প্রেরণা যোগাবে। আগামী সোমবার সিয়াটলে রাউন্ড অব ১৬-এর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে তারা আবারও স্টেডিয়ামজুড়ে ‘কান্ট্রি রোডস’-এর সেই সুর শুনতে উদগ্রীব হয়ে আছে। এখন দেখার বিষয়, স্বাগতিকদের এই স্বপ্নযাত্রা কতদূর পর্যন্ত গড়ায়।
আপনার কি মনে হয়, দর্শকদের এই অসামান্য সমর্থন কি বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পেতে সাহায্য করবে?
মন্তব্য করুন