২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও মিশরের মধ্যকার নকআউট ম্যাচটি ঘিরে যে রেফারিং বিতর্ক দানা বেঁধেছিল, তাতে ঘি ঢালতে নারাজ সুইজারল্যান্ড দলের কোচ মুরাত ইয়াকিন। ম্যাচটি নিয়ে মিশরের কোচিং স্টাফ ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ তোলা হলেও, মুরাত ইয়াকিন সরাসরি সেই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম এবং স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তের মতোই ইয়াকিন মনে করেন, ম্যাচটি পরিচালনা ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।
রেফারিং নিয়ে সমালোচনার জবাবে ইয়াকিন আধুনিক ফুটবল প্রযুক্তির কার্যকারিতার ওপর জোর দেন। তিনি পরিষ্কারভাবে জানান, বর্তমান যুগে ভিএআর এবং উন্নত প্রযুক্তির উপস্থিতিতে মাঠের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। ফলে কোনো দলের পক্ষেই রেফারিদের দ্বারা অনৈতিক সুবিধা পাওয়া অসম্ভব। আর্জেন্টিনার আগ্রাসী খেলার ধরনে প্রতিপক্ষ চাপে পড়ে যায় কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনা অনেক চতুর এবং কৌশলগত দল। তারা প্রচণ্ড আবেগ ও জেদ নিয়ে লড়াই করে, তাই মাঠে তাদের মোকাবিলা করা সত্যিই বেশ কঠিন। এর সাথে রেফারিংয়ের খারাপ বা নেতিবাচক কোনো যোগসূত্র তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।
ম্যাচ-পরবর্তী সময় অপবাদ বা বিতর্ক তৈরির প্রবণতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই সুইস কোচ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, মাঠের লড়াই যা হওয়ার তা ওই ৯০ মিনিটের মধ্যেই শেষ। খেলা শেষ হওয়ার পর অযথা কাদা ছোড়াছুড়ি বা অপমান করা কোনো সমাধান আনে না, বরং এটি ফুটবলীয় সংস্কৃতির পরিপন্থী।
সুইজারল্যান্ড কোচের এই বিবৃতি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রতি চলমান সমালোচনার মুখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বিতর্ক এড়িয়ে খেলার মাঠে মনোযোগ দেওয়াই যে শ্রেয়, ইয়াকিনের কথায় সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একজন নিরপেক্ষ কোচ হিসেবে তার এই মন্তব্য বিশ্বকাপের রেফারিং বিতর্ককে কিছুটা হলেও প্রশমিত করবে। এখন সবকিছু ছাপিয়ে সবার দৃষ্টি আগামী রোববার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের হাইভোল্টেজ ম্যাচটির দিকে।
মন্তব্য করুন