দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট, রাজস্ব আয়ের ওপর চাপ এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় নবম পে স্কেলের আগের সুপারিশগুলো হুবহু বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজেট ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান ঋণ পরিশোধের দায় মেটাতে সরকার প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোতে বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা করছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার আগের খসড়াটি পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
সচিব কমিটির সাম্প্রতিক পঞ্চম বৈঠকে পে স্কেলের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বেতন স্কেলের বিষয়টি তাড়াহুড়ো না করে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের সুপারিশে বেতন ও ভাতা সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন ও ভাতা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেডভিত্তিক পার্থক্যের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্রমতে, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি হারে বাড়তে পারে, যাতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির প্রভাব সামলাতে পারেন। অন্যদিকে, ১ থেকে ১০ম গ্রেডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখা হতে পারে। এছাড়া মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং যাতায়াত ভাতার মতো সুযোগ-সুবিধাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে।
পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার আপডেট, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়ের মতো কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে সচিব কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে পারবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নবম পে স্কেল চূড়ান্ত রূপ পাবে। সরকারি কর্মচারীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই নতুন কাঠামোর জন্য, যা মুদ্রাস্ফীতির এ সময়ে তাদের জীবনযাত্রার মান নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে।
নতুন পে স্কেলে আপনার প্রত্যাশা কী? নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো কি এই সময়ে জরুরি? আপনার মতামত জানান।
মন্তব্য করুন