ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দলের বাঁ-হাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদবের ক্যারিয়ার বর্তমানে এক অদ্ভুত ও জটিল সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত দুই বছরে তার পারফরম্যান্সের গ্রাফ ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ২০২৩-২৪ সালের ইংল্যান্ড সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচ উইনিং ভূমিকা পালন করার পর থেকেই তার দলে সুযোগ পাওয়া এবং ছন্দে থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অস্ত্রোপচার এবং ইনজুরির পর দলে ফিরে আসার পর থেকে তার বোলিং অ্যাকশন, রান আপ এবং লেন্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা প্রভাবিত হয়েছে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনা চলছে।
গলে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে কুলদীপকে বেশ সংগ্রাম করতে দেখা গেছে। রবীন্দ্র জাদেজা কিংবা মানভ সুথারের মতো ফিঙ্গার স্পিনাররা যেখানে এক টানা নিখুঁত লাইন-লেন্থ বজায় রেখে বোলিং করেছেন, সেখানে কুলদীপের বোলিংয়ে ধারাবাহিকতার কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কুকাবুরা বল পুরোনো ও নরম হয়ে যাওয়ার পর রিস্ট স্পিনারদের জন্য বলের গ্রিপ করা এবং টার্ন আদায় করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বহুতুলে নিজেও স্বীকার করেছেন যে, নরম বল দিয়ে লেগ স্পিন করা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এছাড়া ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে দলের কম্বিনেশনে অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডারদের প্রাধান্য দেওয়ায় প্রায়ই একাদশের বাইরে থাকতে হচ্ছে এই প্রতিভাবান স্পিনারকে।
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কুলদীপের টেস্ট বোলিং গড় ও স্ট্রাইক রেট বেশ সন্তোষজনক, তবুও নিয়মিত ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব এবং অপর্যাপ্ত বোলিং ভলিউম তার স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাত্র ৩১ বছর বয়সে, যা একজন স্পিনারের ক্যারিয়ারের সেরা সময় হিসেবে ধরা হয়, কুলদীপের মতো একজন ম্যাচ উইনারকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে শুধু বর্তমান ম্যাচের রণকৌশল নয়, বরং এই বিরল প্রতিভাকে দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে এবং সঠিক ছন্দ বজায় রাখতে আরও বেশি সুযোগ ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করতে হবে, যাতে তিনি দেশের হয়ে তার সেরা পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখতে পারেন।
মন্তব্য করুন