বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের নাম কেপ ভার্দে। আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে মাত্র পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রটি প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। ‘এইচ’ গ্রুপে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, ফুটবলে বড় নামের চেয়ে হৃদয়ের সাহস অনেক বেশি কার্যকর।
রূপকথার নকআউট যাত্রা গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে কেপ ভার্দে। স্পেনের সাথে ড্র, উরুগুয়ের সাথে ২-২ সমতা এবং সবশেষে সৌদি আরবের সাথে গোলশূন্য ড্র করে তারা গ্রুপের রানার্স-আপ হয়েছে। তাদের এই সাফল্যকে কোচ বুবিস্তা ‘রূপকথা’ না বলে কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার ফল বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “ছেলেরা যা অর্জন করেছে, তার জন্য আমি গর্বিত। ছোট দেশ হলেও আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে লড়াই করতে জানি।”
আর্জেন্টিনা প্রশ্নে কোচের ভাবনা আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে কেপ ভার্দে। লিওনেল মেসির দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাওয়াকে কোচ বুবিস্তা একটি ‘বড় সম্মান’ হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, আর্জেন্টিনায় কেপ ভার্দের বিপুল সংখ্যক মানুষ অভিবাসী হিসেবে বসবাস করেন, তাই দেশটির সাথে তাদের দীর্ঘদিনের আবেগীয় যোগাযোগ রয়েছে।
কোচ বুবিস্তার আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। তিনি বলেন, “প্রথম দুই ম্যাচের পরই আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে এই পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব। আমাদের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।” আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াই করার জন্য তার দল পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে করছেন এই স্বপ্নবাজ কোচ।
ফুটবল বিশ্বে এখন সবার চোখ মায়ামির সেই ম্যাচের দিকে, যেখানে লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতার বিপক্ষে লড়বে কেপ ভার্দের এক ঝাঁক অকুতোভয় ফুটবলার।
সূত্র: বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ প্রতিবেদন।
মন্তব্য করুন