সিনেডির সাম্প্রতিক এক ল্যাব টেস্টে ভিডিওগ্রাফি দুনিয়ায় বড় ধরনের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। নতুন উন্মোচিত ডিজেআই ওসমো পকেট ৪ প্রো (DJI Osmo Pocket 4 Pro) ডায়নামিক রেঞ্জের দিক থেকে পেছনে ফেলে দিয়েছে হেভিওয়েট সিনেম্যাটিক ক্যামেরা এআরআরআই অ্যালেক্সা ৩৫ (ARRI ALEXA 35)-কে। একই সময়ে এর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্সটা৩৬০ লুনা আল্ট্রা (Insta360 Luna Ultra) অতিরিক্ত নয়েজ রিডাকশনের কারণে ল্যাব টেস্টে চরমভাবে হোঁচট খেয়েছে।
ডিজেআই ওসমো পকেট ৪ প্রো: নতুন মাইলফলক নতুন ওসমো পকেট ৪ প্রোর ওয়াইড ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়েছে এলওএফআইসি (LOFIC - lateral overflow integration capacitor) প্রযুক্তির সেন্সর। এর ফলে কোনো রিংগিং শাটটার পেনাল্টি ছাড়াই অতিরিক্ত হাইলাইট হেডরুম পাওয়া যায়। ল্যাব টেস্টে ১০-বিট ৪কে ২৫পি ডি-লগ২ (D-Log2) প্রোফাইলে নেটিভ আইএসও ১৬০০-তে নয়েজ ফ্লোরের ওপরে অবিশ্বাস্য ১৬ স্টপ ডায়নামিক রেঞ্জ রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে এআরআরআই অ্যালেক্সা ৩৫-এর রেকর্ড ছিল ১৫ স্টপ। IMATEST-এর রিডিং অনুযায়ী এটি সিগন্যাল-টু-নয়েজ অনুপাতে ১৭.২ স্টপ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ ছাড়া এর এক্সপোজার ল্যাটিটিউড বা এক্সপোজার সহ্যক্ষমতাও বাজারের প্রায় সব দামি ক্যামেরাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।
ইন্সটা৩৬০ লুনা আল্ট্রার ব্যর্থতা অন্যদিকে, ৭২৯ ইউরো মূল্যের ইন্সটা৩৬০ লুনা আল্ট্রা ল্যাব টেস্টে আশানুরূপ ফল দিতে পারেনি। আই-লগ (I-Log) মোডে এর অতি-আগ্রাসী ইন্টারনাল নয়েজ রিডাকশন বা কৃত্রিম নয়েজ কমানোর প্রবণতা গ্রাফ ও ইমেজ কোয়ালিটি নষ্ট করে দিয়েছে। এর ফলে আইমেটেস্ট সিগন্যাল থেকে নয়েজ আলাদা করতে ব্যর্থ হয় এবং এক্সপোজার ল্যাটিটিউড টেস্টেও ক্যামেরাটি সর্বনিম্ন ফল করে। একমাত্র টেলিক্যামেরার ৮কে২৫ মোড ছাড়া বাকি মোডগুলোতে এর পারফরম্যান্স সন্তোষজনক ছিল না।
মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি ডিজেআই ওসমো পকেট ৪ প্রোর দাম শুরু হয়েছে ৬০০ ইউরো থেকে, যা প্রতিযোগীর তুলনায় সস্তা হওয়া সত্ত্বেও অনেক বেশি উন্নত ইমেজ কোয়ালিটি ও পারফরম্যান্স প্রদান করছে। পকেট আকৃতির একটি ডিভাইসে এ ধরনের ল্যাব রেজাল্ট ক্যামেরা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন