‘বাবা’, ‘ড্যাড’ বা ‘পাপা’ শব্দটি যেটাই হোক না কেন, এর মাঝেই লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, ভরসা আর নিঃশর্ত ভালোবাসার হাত। সন্তানের জীবনের প্রথম নায়ক এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে নীরব শক্তির উৎস হলেন বাবা। আজ ২১ জুন (জুন মাসের তৃতীয় রবিবার) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যদায় ও ভালোবাসায় পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। বাবার ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও গভীর স্নেহকে সম্মান জানাতে প্রতি বছর এই বিশেষ দিনটি বিশ্বব্যাপী সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়।
বছরের প্রতিটি দিনই বাবার জন্য ভালোবাসা প্রকাশের দিন হলেও, এই বিশেষ দিনটি সন্তানকে আরও একবার মনে করিয়ে দেয় শত ব্যস্ততার মাঝেও বাবার হাতটি শক্ত করে ধরার কথা। আজকের দিনে অনেকেই নিজ নিজ বাবাকে বিশেষ উপহার দেন, পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটান কিংবা দূরে থাকা বাবার খোঁজ নেন। আবার অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবাকে নিয়ে পুরোনো স্মৃতিরোমন্থন করেন এবং ভালোবাসার বার্তা প্রকাশ করে আবেগ প্রকাশ করেন। যাদের বাবা আর পৃথিবীতে নেই, তারা বাবার আত্মার শান্তির জন্য প্রার্থনা করে দিনটি অতিবাহিত করেন।
বিশ্ব বাবা দিবসের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯০৮ সালে প্রথম পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে বাবাদের স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তবে দিবসটিকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ওয়াশিংটনের বাসিন্দা সোনোরা স্মার্ট ডড-এর। তাঁর মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাওয়ার পর, তাঁর বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট একাই সোনোরাসহ মোট ছয় সন্তানকে পরম স্নেহে ও কায়ক্লেশে বড় করে তোলেন। বাবার এই অসামান্য ত্যাগ ও একনিষ্ঠ দায়িত্ববোধ দেখে সোনোরা মনে করেন, মায়েদের মতো বাবাদের জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা উচিত। তাঁর এই মহতী উদ্যোগের ফলেই ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস পালন করা শুরু হয়।
সোনারা স্মার্ট ডডের হাত ধরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই জনপ্রিয় হতে থাকে। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে বাবা দিবসকে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়ার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ এই দিবস পালনে পূর্ণ সমর্থন জানান। এরপর ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দেন। সবশেষে, ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন একটি আইনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বাবা দিবসকে স্থায়ীভাবে জাতীয় দিবসের মর্যাদা দেন। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই জুনের এই তৃতীয় রবিবারকে বাবা দিবস হিসেবে পালন করা হলেও, কিছু দেশ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অনুযায়ী ভিন্ন তারিখেও এটি উদযাপন করে থাকে।
মন্তব্য করুন