আমরা অনেকেই জানি যে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়, ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়ে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে অতিরিক্ত চিনি যে পরোক্ষভাবে আমাদের চোখের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়টি অনেকেরই অজানা। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, কদাচিৎ একটু মিষ্টি বা শর্করা জাতীয় খাবার খেলে চোখে বড় কোনো সমস্যা তৈরি হয় না। আসল বিপত্তি ঘটে তখন, যখন দীর্ঘকাল ধরে অসচেতনতার কারণে রক্তে শর্করার সঠিক নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে না। অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগী কিংবা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের রেটিনায় স্থায়ী ক্ষতিসাধন করতে পারে।
সরাসরি চিনি ক্ষতিকর না হলেও প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিশোধিত চিনি খেলে টাইপ-টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। রক্তে দীর্ঘ সময় ধরে বাড়তি গ্লুকোজ উপস্থিত থাকলে তা চোখের পেছনের আলোক-সংবেদনশীল টিস্যু বা রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে শুরু করে। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি' বলা হয়ে থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির কোনো বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায় না, ফলে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে চোখে দেখতে পেলেও ভেতরে ভেতরে তাঁর রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই রক্তনালীগুলো বন্ধ হয়ে কিংবা ক্ষরণ ঘটে দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সাধারণ মানুষের তুলনায় ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের অনেক কম বয়সে এবং দ্রুত ছানি পড়ার প্রবণতা দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে গ্লুকোজের হঠাৎ ওঠানামা চোখের লেন্সের আকৃতি ও ফোকাস করার শক্তি সাময়িকভাবে বদলে দেয়, যার ফলে হঠাৎ দৃষ্টিভ্রম বা ঝাপসা দেখার সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে এই ধরনের সমস্যা এড়াতে খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের সচেতনতা আনা প্রয়োজন। দৈনন্দিন খাবার তালিকা থেকে কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি, কেক, বিস্কুট এবং প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট যেমন সাদা ময়দা বা অতি-পরিশোধিত ভাত কমানো উচিত। চা-কফিতে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলার পাশাপাশি শাকসবজি, গোটা শস্য, প্রোটিন এবং তাজা ফলমূল বেশি করে খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘকাল ভালো রাখা সম্ভব।
মন্তব্য করুন