রাজধানীর উত্তর বাড্ডার খালপাড় এলাকার একটি টিনশেড বাড়িতে নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করা হলেও দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মিলছে না পাইপলাইনের গ্যাস। ভোর ৫টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চুলার নাগাল না পাওয়ায় ষাটোর্ধ্ব জুলেখা বেগমসহ সেখানকার ২৭টি পরিবারের দৈনন্দিন জীবন এক মানবেতর লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। বাধ্য হয়ে মাটির উনুন আর চারপাশ থেকে কুড়িয়ে আনা খড়কুটো, কাঠ ও বাঁশের চটিতে রান্না সারছেন এই নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা।
বাসার স্বামী দারোয়ান এবং ছেলে গাড়িচালকের সীমিত আয়ে জীবনযাপন করা জুলেখা বেগম জানান, গ্যাসের অভাবে অনেক দিন সকালে স্বামী-সন্তানদের না খাইয়ে কাজে পাঠাতে হয় অথবা শুকনো মুড়ি খেয়ে দিন কাটাতে হয়। এলপিজি সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক চুলা কেনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বৃদ্ধ বয়সেও তাকে প্রতিদিন জ্বালানি সংগ্রহের জন্য গলদঘর্ম হতে হয়। একই বাড়ির বাসিন্দা রুমানা আক্তার ও ফাতেমা আক্তার মুক্তারা জানান, গভীর রাতে ১টা থেকে ৩টার দিকে কদাচিৎ গ্যাস এলে রান্নার ধুম পড়ে যায়। অনেক সময় ভোর রাতে রান্না শেষ করে মাত্র কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়েই সন্তানদের স্কুল বা মাদরাসায় নিয়ে যেতে হয় তাদের। একদিকে নিয়মিত গ্যাসের বিল পরিশোধ করলেও গ্যাস না পাওয়া, অন্যদিকে বিকল্প সিলিন্ডার ব্যবহারের বাড়তি খরচের ভয় ও ঝুটঝামেলায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এই এলাকার বাসিন্দারা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. বদরূল ইমাম এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের বিষয়ে জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় আবাসিক গ্রাহকদের এই খেসারত দিতে হচ্ছে। তিনি আমদানির ওপর নির্ভর না করে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন