ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুলিশ বাহিনীকে ঢেলে সাজানোর কথা বলা হলেও বাহিনীর ভেতরে ঘুস, বদলি বাণিজ্য এবং পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভিযোগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। নিয়োগ, পদোন্নতি ও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়ম এবং অডিও ফাঁসের ঘটনায় বাহিনীটির ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আওয়ামী লীগ আমলে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন এবং বিরোধী মত দমনে পুলিশকে ব্যবহারের বহু অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সময়েও প্রশাসনের অন্দরে বদলি বাণিজ্য এবং আর্থিক দুর্নীতির বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি আইজিপির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক বডিগার্ডের ‘বদলিবাণিজ্য’ সংক্রান্ত গোপন অডিও ফাঁসের ঘটনা বেশ আলোড়ন তুলেছে। এর পাশাপাশি খুলনার শিরোমণি এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল গ্রেপ্তার, রাজশাহীতে এসআইয়ের ঘুস লেনদেনের অডিও এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ওসির ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস’ মন্তব্য বাহিনীটির ভেতরের ভঙ্গুর প্রশাসনিক চিত্রকে আবারও সামনে এনেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি বা মামলা নিতে অনীহা কিংবা প্রভাবশালী মহলের চাপে ন্যায়বিচার না পাওয়ার পুরনো প্রবণতা এখনও রয়ে গেছে। তবে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে নজরকাড়া পরিবর্তন এসেছে এবং মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ কিংবা গুমের মতো সংস্কৃতি থেকে পুলিশ এখন পুরোপুরি সরে এসেছে।
অন্যদিকে অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৮৬১ সালের পুরোনো ঔপনিবেশিক আইন দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় পুলিশ নিজে নিজে পরিবর্তিত হবে না। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, কাঠামোগত সংস্কার, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং চাকরির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না গেলে পুলিশের মৌলিক পরিবর্তন আশা করা বোকামি।
মন্তব্য করুন