যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘায়িত সামরিক সংঘাতের প্রভাব এবার মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ রুটেও পড়তে শুরু করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী দুটি জাহাজে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশ মেরিটাইম এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং বড় ধরনের কোনো পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।
বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির প্রায় এক পঞ্চমাংশ সরবরাহের প্রধান রুট হিসেবে এই হরমুজ প্রণালি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কর্তৃক ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই এই জলপথটি যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে তেহরান এই রুট দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর স্বাধীন চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও বাধাগ্রস্ত করছে এবং পূর্বানুমতি ছাড়া চলাচলকারী যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে। এর বিপরীতে ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটনও দেশটির প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ ও নজরদারি বজায় রেখেছে।
ব্রিটিশ মেরিটাইম সূত্র জানিয়েছে, প্রথম হামলার শিকার জাহাজটিতে অজ্ঞাত প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ফলে সামান্য অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। তবে নাবিকদের দ্রুত তৎপরতায় সেই আগুন তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষতি ছাড়াই জাহাজটি তার নির্ধারিত গন্তব্যের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর ওমানের পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় দ্বিতীয় আরেকটি তেলবাহী জাহাজ একইভাবে অজ্ঞাত আক্রমণের শিকার হয়। সৌভাগ্যবশত, দ্বিতীয় জাহাজের সব নাবিকও সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছেন এবং জ্বালানি তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ার মতো কোনো পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটেনি। বিশ্ব বাণিজ্যের এই অত্যন্ত সংবেদনশীল রুটে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে নতুন করে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন