ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার চলমান ভূরাজনৈতিক যুদ্ধাবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত নৌপথে নিরাপত্তার চরম হুমকির মুখে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে বড় ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সরকার। দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ, পরিবহন ও কৃষি খাতের উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে জরুরি আপৎকালীন মজুত বাড়ানোর অংশ হিসেবে রেকর্ড পরিমাণ ডিজেল আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) জোড়া বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত সভায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিএপি) প্রায় ১৫ লাখ ৮০ হাজার টন বা ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির বড় প্রস্তাব অনুমোদিত হতে যাচ্ছে। ওমানভিত্তিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি মাল্টিনেক্স কনভার্জেন্স টেকনোলজিস এলএলসি’ থেকে সরাসরি প্রক্রিয়ায় ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫০২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এভাবে মোট ১৫টি চালানের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল সংগ্রহ করা হবে। হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পূর্বনির্ধারিত চুক্তিভিত্তিক সরবরাহকারীরা সময়মতো তেল সরবরাহ করতে গিয়ে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ায় সরকার বিকল্প ও জরুরি উৎস হিসেবে এই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
আজকের মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ডিজেল আমদানির পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) ও বিএডিসির চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন এমওপি সার আমদানি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১০ হাজার টন মসুর ডাল ও এক কোটি লিটার পরিশোধিত রাইস ব্রান তেল ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে ভাসানচরে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১ কোটি ৬০ লাখ পিস বস্তা ক্রয়, চট্টগ্রাম বন্দরে বার্থ অপারেটর নিয়োগ এবং সার উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা কমানোর নীতিগত অনুমোদনও চাওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরাসরি কেনাকাটার এই সিদ্ধান্তকে জরুরি হিসেবে দেখলেও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন