গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সীমান্ত সুরক্ষা, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার এবং রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এসব কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ১৮০ দিনে বিশেষ কিছু যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আলোচ্য সময়ে গৃহীত অন্যতম প্রধান উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা এবং মেহেরপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে দেওয়া। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার ক্ষেত্রে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করে এক মাসের মধ্যে ১০টি রায় ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধের অভয়ারণ্য গড়ে তোলা সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনী বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে। সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও সাঁজোয়া যান ব্যবহার করে ওই এলাকায় সফলভাবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অবৈধ পুশ-ইন প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও মন্ত্রণালয় বিশেষ সাফল্য দেখিয়েছে। কুষ্টিয়া, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতের দেওয়া অসম্পূর্ণ ও অসংগত তালিকা যাচাই না করে কাউকে গ্রহণ না করার কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কূটনৈতিক উপায়ে কড়া প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ে পুশ-ইন বন্ধের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে পলাতক আসামি মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া দেশের কারাগার ও আটককেন্দ্রগুলোতে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ায় ‘ন্যাশনাল প্রিভেন্টিভ মেকানিজম (এনপিএম) বিভাগ’ গঠনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা পূর্বঘোষণা ছাড়াই যেকোনো আটককেন্দ্র পরিদর্শন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সুপারিশ করার ক্ষমতা রাখবে।
মন্তব্য করুন