কুড়িগ্রামের চিলমারীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে অফিসার্স ক্লাবের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যাডমিন্টন খেলার সময় অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর ফলে বিদ্যুৎ অপচয়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের ভোগান্তির মুখে সাধারণ মানুষ যখন বিদ্যুৎ সংকটে জর্জরিত, তখন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এভাবে দীর্ঘ সময় ধরে বাতি জ্বালিয়ে খেলাধুলা করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের মতে, যেখানে সরকার সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পরামর্শ দিচ্ছে, সেখানে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক, জসিম মিয়া, আমিনুল ও রাসেল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নিয়মিত লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হলেও ইউএনও এবং অফিসার্স ক্লাবের কর্মকাণ্ডে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। এছাড়া ছাত্রদল নেতা মঈনুল ইসলাম মানিক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ হোসেন পাখিও তীব্র গরমের মধ্যে এ ধরনের বিদ্যুৎ অপচয়কে দুঃখজনক ও দায়িত্বহীনতা বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান যে, অনেকেই বিদ্যুৎ অপচয় করছেন তাতে ক্ষতি নেই, ইউএনও খেলেছে তাতে ক্ষতি হলো না, খেলা শরীরের জন্য ভালো এবং একটু তো খেলবেই। স্থানীয়রা সরকারি সম্পদের ব্যবহারে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন