ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ ধারায় নোটিশ উত্থাপন এবং মন্ত্রীর জবাবকে কেন্দ্র করে সংসদ কক্ষে এক অভূতপূর্ব হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বুধবার (১০ জুন) যখন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নাটোরে গ্যাস সংযোগ প্রসঙ্গে রসিকতা করে বলেন, "নাটোরে আমার শ্বশুরবাড়ি, এখানে তো গ্যাস দিতেই হবে; যখন গ্যাস পাবো তখন গ্যাস দেব।" মন্ত্রীর এমন ঘরোয়া বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হাস্যরসের ছলে নাটোরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকার দলীয় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে একটি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন করার সুযোগ দেন। সুযোগ পেয়ে হুইপ দুলুও হেসে বলেন, "যেহেতু উনি আমার দুলাভাই এবং নাটোরে বিয়ে করেছেন, তাই নাটোরের জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেখানে কবে নাগাদ গ্যাসের সংযোগ দেবেন—এটাই ওনার কাছে আমার প্রশ্ন।" জবাবে মন্ত্রী টুকু হেসে মন্তব্য করেন, "এটা তো তাহলে শ্বশুরবাড়ির আবদার হয়ে গেল।" তিনি জানান, কুপ খনন ও নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে গ্যাস আবিষ্কার হলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নাটোরে গ্যাস সংযোগের উদ্বোধন করা হবে।
ঠিক এর পরপরই মন্ত্রীর এই শ্বশুরবাড়ি ও বিয়ের প্রসঙ্গটি টেনে সংসদে রম্য রসিকতা তৈরি করেন নোয়াখালীর স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বলেন, "বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী বলেছেন ওনার শ্বশুরবাড়ি নাটোরে, তাই গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে তিনি নাটোরকে অগ্রাধিকার দেবেন। ওনাকে একটা অনুরোধ করব, উনি নোয়াখালীতেও একটা বিয়ে করুক, তাহলে আমরাও নোয়াখালীতে গ্যাস পাব।" ব্যারিস্টার খোকনের এমন চটজলদি মন্তব্যে সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়। এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও রসিকতা ধরে রেখে বলেন, "ওনাকে মাইক দেন। মন্ত্রী, আপনি কি (আরেকটা) বিয়ে করতে চান?" স্পিকারের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সামনে বসা জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে বলেন, "আমার সামনে ওনারা বসে আছেন, ওনারা শরিয়াহ আইন ভালো বোঝেন। আমার বিয়ে করার এখনো তিনটা বাকি আছে, কিন্তু বিয়ে করার আর শখ নাই। আর বেশি বিয়ে করার ইচ্ছা নাই, যেটা করছি এটাই যথেষ্ট।" মন্ত্রীর এই চূড়ান্ত জবাবে প্রধানমন্ত্রীসহ পুরো সংসদের সকল সদস্য হাসিতে ফেটে পড়েন।
মন্তব্য করুন