ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর এবার ইরানের জব্দ করা তহবিল বা সম্পদ ছাড় দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরান তার দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি এবং দৃশ্যমানভাবে বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত মার্কিন অ্যাকাউন্টে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ কোনোভাবেই অবমুক্ত করা হবে না। ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান এই উদীয়মান সমঝোতাটি মূলত ‘কাজের বিনিময়ে সুবিধা’ (Action for Action) এবং পারস্পরিক দায়িত্ব পালনের কঠোর নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইরান চুক্তি মেনে চলছে কি না তা আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ যাচাইযোগ্য হওয়ার পরহে কেবল দেশটিকে যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা কৌশলগত প্রণোদনা দেওয়া হবে, তার আগে নয়।
আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন নীতি-নির্ধারকেরা এই দ্বিপাক্ষিক সমঝোতাকে এমন একটি প্রাথমিক পথ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে আলোচনার টেবিলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ ও শেষ পর্যন্ত তা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, চুক্তির অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত ৬০ দিনের এই বিশেষ আলোচনা পর্ব উভয় পক্ষের জন্যই দারুণ উপকারী হবে; যা চলমান যুদ্ধবিরতিকে আরও দীর্ঘায়িত করবে, বাণিজ্যিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সহায়তা করবে এবং সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে নতুন করে পারমাণবিক চুক্তি (Nuclear Deal) শুরুর পথ সুগম করবে। এর আগে গত রবিবার (১৪ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ঐতিহাসিক এই চুক্তির কথা ঘোষণা করে লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’ মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অক্লান্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে দুই দেশ যুদ্ধের অবসান, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার এই কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।
মন্তব্য করুন