শেয়ারবাজারে ঋণ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে বহুল প্রতীক্ষিত ‘মার্জিন বিধিমালা’র সংশোধনী গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংশোধিত বিধিমালাটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে সোমবার রাতে বিধিমালাটির গেজেট প্রকাশিত হয়।
নতুন সংশোধিত বিধিমালায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ ও ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু নতুন শর্ত ও পরিবর্তন আনা হয়েছে:
ঋণের অনুপাত: নতুন বিধিমালায় সকল শেয়ার ও সিকিউরিটিজের জন্য মার্জিন ঋণের অনুপাত ১:১ নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী তার নিজস্ব ইক্যুইটির সমপরিমাণ অর্থ মার্জিন ঋণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারবেন।
পিই ও পিবি অনুপাত: জীবন বিমা ছাড়া অন্য কোম্পানির শেয়ারে ট্রেইলিং পিই ৪০-এর বেশি হলে কিংবা কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ঋণাত্মক হলে ওই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। অন্যদিকে জীবন বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই-এর পরিবর্তে পিবি (Price-to-Book) অনুপাত বিবেচনা করা হবে। পিবি ৩-এর বেশি হলে অথবা নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক হলে সেই শেয়ারে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।
ন্যূনতম বিনিয়োগের শর্ত: মার্জিন অর্থায়ন নেওয়ার সময় গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিতে ন্যূনতম ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। এর কম বিনিয়োগ থাকলে ওই হিসাবে মার্জিন ঋণ দেওয়া যাবে না।
মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির নিয়ম: সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য মার্জিন কল ও শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। পোর্টফোলিওর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নামলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান আগাম নোটিশ বা মার্জিন কল দেবে। এরপর ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে নামলে কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি করতে পারবে, যা লিখিতভাবে, ই-মেইল, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর বা ফোন কলের মাধ্যমে গ্রাহককে জানাতে হবে।
যোগ্য শেয়ার: ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির কোম্পানি, এসএমই বোর্ড, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) এবং ওটিসি প্ল্যাটফর্মের সিকিউরিটিজগুলো মার্জিন ঋণের আওতার বাইরে থাকবে। কেবল স্টক এক্সচেঞ্জের মূল মার্কেটের তালিকাভুক্ত ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ার এই সুবিধা পাবে।
এক্সপোজার ও চুক্তির মেয়াদ: কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান তাদের মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি কোনো একটি সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করতে পারবে না। মার্জিন চুক্তির মেয়াদ এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা কোনো পক্ষ বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে।
অন্যান্য বিধান: মার্জিন অর্থায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব নামে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন, শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থায়নের জন্য শরিয়াহ সুপারভাইজারি বোর্ড থাকা এবং গবেষণা দলের সদস্যদের বেতন-ভাতা সরাসরি ট্রেডিং কমিশন আয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে এই সংশোধনীতে।
মন্তব্য করুন