আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ফলাফল পক্ষে না গেলে তা না মানার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের আগেই নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি পুরনো কৌশল পুনর্ব্যক্ত করায় মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি টেক্সাসের এক নির্বাচনী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে তিনি নিজেকেই মার্কিন নির্বাচনের সততা বিচারের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে উপস্থাপন করছেন। এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি, যা পরবর্তীতে আদালত ও তাঁর দলের কর্মকর্তাদের দ্বারাও খারিজ হয়ে গিয়েছিল।
রিপাবলিকান পার্টির এই নেতার দল এবারও নির্বাচন শুরুর বহু মাস আগে থেকেই নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। আলাস্কা রাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থী হেরে গেলে নির্বাচন সার্টিফাই আটকে দেওয়ার আইনি নির্দেশ এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় অনাগরিক ভোটার শনাক্তের উদ্যোগের মতো ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করছে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী হামলার স্মৃতি এখনো আমেরিকান রাজনীতিতে তাড়া করে বেড়ায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, একজন ‘বিজয়ী’ হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ইমেজ বজায় রাখতে ট্রাম্প যেকোনো পরাজয় মেনে নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়, তবে তিনি ফলাফলকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে দীর্ঘায়িত বা প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে ট্রাম্পের এই সম্ভাব্য কৌশল মোকাবিলায় ডেমোক্র্যাট ও রাজ্য নির্বাচনী কর্মকর্তারাও এখন থেকেই সতর্ক অবস্থান ও আইনি প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।