নেত্রকোনার মদনে মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার আলোচিত মামলায় শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের ডিএনএ টেস্ট শতভাগ মিলেছে। যুক্তিতর্ক চলাকালে বিচারকের কাছে সব সম্পত্তি লিখে দিয়ে মামলা থেকে অব্যাহতির আকুতি জানিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক। আগামী ১১ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
বুধবার নেত্রকোণা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে এই মামলার যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। বিচারিক কার্যক্রমে নাটকীয় মোড় নেয় যখন বিচারকের প্রশ্নের জবাবে মূল আসামি শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর তার মাত্র ১২ শতাংশ জমি থাকার কথা উল্লেখ করে জীবনের সব সম্পদের বিনিময়ে মামলা থেকে নিষ্কৃতি চান। এ সময় বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আপসের প্রস্তাব তুলতে চাইলে বিচারক তা কঠোরহাতে নাকচ করে দেন।
মামলার নথিপত্র ও সিআইডির তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ৯৯.৯৯% মিল পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষকের পিতৃত্ব শতভাগ নিশ্চিত হয়েছে। সিআইডির এই নিখুঁত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এবং পুলিশের চার্জশিটের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির জোরালো দাবি জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল জানান, রাষ্ট্রপক্ষ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আদালতে অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী ১১ নভেম্বর এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বলে আদালত সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।