মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অত্যন্ত প্রভাবশালী কয়েকজন ক্যাবিনেট সদস্য, গোয়েন্দা প্রধান এবং শীর্ষ সামরিক কর্তারা এক পূর্বঘোষিত ও গোপনীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবকাশযাপনের ঐতিহাসিক প্রাসাদ ক্যাম্প ডেভিডে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, এই গোপন বৈঠকে মূলত চলমান ইরান যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী মার্কিন কৌশল ও করণীয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর, কারণ ট্রাম্প প্রশাসন কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই গোপন সভার আয়োজন করেছিল। এর আগের অনুরূপ একটি আকস্মিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছিল। এবারের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। এছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, হোয়াইট হাউজের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ, সিআইএ পরিচালক জন রেটক্লিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ডেন কেইন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক নীতি নির্ধারণে এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কৌশলগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এদিকে তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা থমকে যাওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান হয় নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে, নতুবা তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। একই সময়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও হুথিদের দমনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো চাপ রয়েছে। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডের এই গোপন বৈঠকের পাশাপাশি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রহস্যজনক মন্তব্য করে বলেন যে, এ বিষয়ে পর্দার আড়ালে বেশ ভালো কাজ চলছে এবং খুব দ্রুতই এর ফলাফল দৃশ্যমান হবে।
মন্তব্য করুন