ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে এর মধ্যেই দলটির কয়েকজন সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীর বিতর্কিত মন্তব্য, নৈতিক স্খলন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগ ঘিরে দলটির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাজনীতিতে নতুন অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। ধর্মভিত্তিক কঠোর সাংগঠনিক কাঠামো ও শৃঙ্খলার জন্য পরিচিত এই দলটির ইমেজ রক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার কিছু বিতর্কিত মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। জনসভায় নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং অন্য এক বক্তৃতায় এক মন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার জেরে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা ও সমন জারি হয়। এর বাইরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তার একটি বক্তব্যও তীব্র প্রতিবাদ ও আইনি নোটিশের মুখে পড়ে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে জামায়াত। একই সঙ্গে তার সদস্যপদ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ন্যাম ফ্ল্যাটে ওই নারীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা মামলা পর্যন্ত গড়ায়।
এ ছাড়াও নড়াইলের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর বিরুদ্ধে মেয়ের নামে অনুদানের টাকা বরাদ্দ দেওয়া, রংপুরের সংসদ সদস্যের স্বজনপ্রীতি, ঝিনাইদহে উপকারভোগীর বদলে নাতনিকে বাইসাইকেল দেওয়া এবং সিরাজগঞ্জে সার কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে দলটি। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং পরবর্তীতে তার কারাবাস ও জামায়াত কর্তৃক তার পক্ষে রাজপথে অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে।
এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠলেও জামায়াতের হাইকমান্ড বিষয়গুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেন, শৃঙ্খলার প্রশ্নে জামায়াত বিন্দুমাত্র ছাড় দেয় না এবং দলের কেউ অপরাধ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, কিছু নেতার ব্যক্তিগত ভুলের দায় পুরো দলের ওপর না পড়লেও অভিযোগ ওঠার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতের দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নীতিটি প্রশংসনীয়। তবে কঠোর আদর্শের কথা বলা এই দলটিকে আগামী দিনে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন