খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’। নামমাত্র প্রিমিয়ামে এই বিমার সুবিধা পেতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারবেন কৃষকরা, যার মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয় ক্ষতিপূরণের অর্থ।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কৃষকদের মাথায় হাত পড়ার দিন শেষ করতে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ (PM Fasal Bima Yojana)। বন্যা, খরা, ভূমিকম্প কিংবা তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উৎপাদিত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ায় সরকার।
যেভাবে আবেদন করতে হবে: দেশের কৃষকরা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে সরকারি ওয়েবসাইট pmfby.gov.in-এ গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। ফসল নষ্ট হওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য ও ক্ষতিপূরণের দাবি এখানে সহজেই জানানো যায়। সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য কৃষকদের প্রাপ্য আর্থিক সহায়তার টাকা সরাসরি ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT)-এর মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া কৃষকরা অনলাইনে তাঁদের আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাসও যাচাই করতে পারেন।
কী ধরনের ক্ষতিতে মেলে সুরক্ষা? ২০২৬ সালের সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় কৃষকরা ব্যাপক সুরক্ষার সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে—
ভূমিকম্প, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
কীটপতঙ্গের আক্রমণ, ফসলের রোগবালাই ও খেতে জল জমে যাওয়ার ফলে হওয়া ক্ষতি।
বীজ বপনে বাধা, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দুর্যোগ এবং অসময়ে বৃষ্টিপাত।
এমনকি ফসল তোলার পরেও যদি কোনো কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তার জন্যও আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া হয়।
নীতি ও আর্থিক বরাদ্দ: ‘এক দেশ, এক ফসল, এক প্রিমিয়াম’ নীতির ওপর ভিত্তি করে সারা দেশে এই বিমা পরিচালিত হয়। কৃষকদের আর্থিক সাহায্য ও সুরক্ষার জন্য ২০২৭ অর্থবছরে ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে সরকার। বর্তমানে ২০২৬ খারিফ মৌসুমে দেশের ২৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই যোজনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। গত ১০ বছরে প্রায় ৯২ কোটি ৪৬ লক্ষ কৃষক এই বিমার আওতায় আবেদন করেছেন এবং এর মধ্যে ২৬ কোটি ৩৩ লক্ষ কৃষক ইতিমধ্যে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন, যা বাবদ সরকারের ২.০৬ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
খুব কম প্রিমিয়ামে সর্বোচ্চ সুবিধা: এই যোজনার মূল আকর্ষণ হলো স্বল্প মূল্যের প্রিমিয়াম। কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ প্রিমিয়ামের হার হলো—
খারিফ শস্য ও তৈলবীজ: মাত্র ২ শতাংশ।
রবি শস্য ও তৈলবীজ: মাত্র ১.৫ শতাংশ।
বার্ষিক বাণিজ্যিক বা বাগান চাষ: ৫ শতাংশ।
বাকি ঝুঁকিভিত্তিক প্রিমিয়ামের সিংহভাগ (৯৫ শতাংশ থেকে ৯৮.৫ শতাংশ) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে ৫০:৫০ অনুপাতে বহন করে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এবং হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে এই ব্যয়ের অনুপাত ৯০:১০ হিসেবে নির্ধারিত রয়েছে।