সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও জনমুখী করতে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা ও সংস্কার যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো—পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন সুবিধা প্রদান এবং পেনশনারদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়স থেকে মাসিক পেনশন পাওয়া শুরু হয় এবং পেনশনভোগী মারা গেলে তার বয়স ৭৫ বছর হওয়া পর্যন্ত নমিনিরা সমহারে পেনশন পান। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবার সর্বজনীন পেনশনে নমিনির পরিবর্তে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার প্রস্তাব তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছরে নামিয়ে আনা এবং অন্তত পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতায় স্কিম থেকে বের হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় পুরো অর্থ উত্তোলনের সুযোগ বা ‘এক্সিট সুবিধা’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
চালুর তিন বছর পার হলেও সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি এবং এ পর্যন্ত মাত্র ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন এতে নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে ‘সমতা’ স্কিমে, আর সবচেয়ে কম মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী ‘প্রবাস’ স্কিমে যুক্ত হয়েছেন। এই স্থবিরতা কাটাতে নতুন সংস্কারের পাশাপাশি গ্রাহকদের জমা করা অর্থের একটি অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ হিসেবে নেওয়ার সুযোগ এবং নামমাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্যবিমা চালুর প্রস্তাব করা হচ্ছে। এছাড়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও গ্রহণযোগ্য করতে একটি ‘শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ’ চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। পর্ষদ সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই নতুন সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন