ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজার নামাজ আজ রাজধানী তেহরানে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শোকের আবহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক বিমান হামলায় নিহত এই নেতার শেষ বিদায় জানাতে দেশটির ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জনতার ঢল নেমেছে। শনিবার থেকে সেখানেই তাঁর মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়েছিল এবং আজ সকাল থেকেই জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
এই শোকাবহ আয়োজনে শুধু সাধারণ মানুষই নন, অংশ নিয়েছেন হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের শীর্ষ নেতারাও। শোকাহত জনতার কণ্ঠে এদিন ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান উচ্চারিত হতে দেখা গেছে। খামেনির এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুধু তেহরানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ। শোকের এই আনুষ্ঠানিকতা আগামীকাল সোমবার তেহরানে এবং মঙ্গলবার পবিত্র শহর কোমে শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অব্যাহত থাকবে।
পরবর্তী ধাপ হিসেবে খামেনির মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে, যেখানে তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে আরও বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ শোকযাত্রার পর আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে তাঁকে সমাহিত করা হবে। দীর্ঘ প্রায় ৩৭ বছর ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নেতার মৃত্যুতে পুরো দেশ এখন শোকের সাগরে ভাসছে এবং এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তেহরানজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মন্তব্য করুন