অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে রূপকথার জন্ম দিয়ে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ দল। ডারউইনের মারিয়ারা ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে চরম বিপাকে ফেলে চালকের আসনে রয়েছে টাইগাররা। ম্যাচের প্রথম দিনে তরুণ পেসার হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সুবাদে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর, বাংলাদেশি ব্যাটাররা যেভাবে অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন তা বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমে ওপেনার তানজিদ হাসান যেভাবে অজি পেস আক্রমণকে মোকাবেলা করে শতক হাঁকিয়েছেন, তা দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এর আগে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের টেস্ট সেঞ্চুরি করার রেকর্ড ছিল না। সেই খরা কাটিয়ে তানজিদ হাসান প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নের মতো বিশ্বমানের বোলারদের সামনে এক অনন্য ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। তার এই ঐতিহাসিক ইনিংসটিতে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, যিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল একটি ইনিংস খেলে দলের বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া টপ অর্ডার ব্যাটারদের রক্ষণাত্মক মানসিকতা, বল বুঝে লিভ করা এবং খারাপ বলগুলোকে আস্থার সাথে সীমানার বাইরে পাঠানোর যে কৌশল তারা দেখিয়েছেন, তা আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের জন্য বড় এক শিক্ষা।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ দল পর্যাপ্ত রান সংগ্রহ করে বেশ বড় ধরনের লিড নিয়ে নিজেদের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় করে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে স্বাগতিক বোলারদের লম্বা সময় ধরে বোলিং করতে বাধ্য করা এবং উইকেটের চরিত্র বুঝে ব্যাটিং করার এই ধারা প্রমাণ করে যে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের মানসিকতা এখন পরিবর্তন করতে শুরু করেছে টাইগাররা। যদিও অজিরা নতুন বল হাতে নিয়ে শেষের দিকে কিছু উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তবুও লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায় বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। সবমিলিয়ে, ক্রিকেটবিশ্বের পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের পাত্তায় না দিয়ে বাংলাদেশের এই রাজকীয় পারফরম্যান্স টেস্ট ক্রিকেটে তাদের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই এক জোরালো বার্তা দিচ্ছে।